Home Lifestyle কোনদিকে যাচ্ছে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক?

কোনদিকে যাচ্ছে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক?

Author

Date

Category

পলিটিক্যাল এবং আর্ন্তজাতিক ইস্যু নিয়ে বিশ্লেষণ করা একেবারেই ছেড়ে দিছি। কিন্তু টপিক যখন ভারত-বাংলাদেশ সর্ম্পক তখন অবশ্যই গুরুত্ব দিতে হবে। ভারত বরাবরের মতই প্রতিবেশী দেশগুলোর উপর একপ্রকার প্রভুত্ব আচরণে বিশ্বাসী। সম্ভবত বিস্তর ব্রিটিশ শাসন থেকে অনুপ্রানিত হয়েছিল ভারতীয় পররাষ্ট্রনীতি। সম্প্রতি বাংলাদেশে চীনের সুদৃষ্টি নিয়ে কলকাতার খ্যাতনামা সাংবাদিক ভারত ভৌমিক ভারত সরকারের দৃষ্টি আর্কষণ করে একটা কলাম লেখেন যার সারসংক্ষেপ হলো ভারতের প্রভুত্ববাদের বলয় হতে একের পর দেশ বের হয়ে যাচ্ছে। ব্যাপারটার শুরু হয় তিস্তার পানি থেকে। জলঘোলা আরো হয় যখন NRC নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের ভিতর কিছুটা উষ্মতা পরিলক্ষিত এবং তলানীতে যেতে থাকে যখন চীন ৯৭ টি পণ্যে শুল্কমুক্ত ঘোষণা করে। প্রাক্তন হাইকমিশনার শ্রিংলা ছিলেন বিডিতে নিযুক্ত সবচেয়ে সফল হাইকমিশনার। শ্রিংলার সময়ে ভারত-বাংলাদেশ সর্ম্পক সবথেকে বেশী ভেলোসিটি পায়। এর কারণ হিসেবে বলা যায় শ্রিংলা সাহেবের কৌশলী পররাষ্ট্র জ্ঞান এবং চৌকস পদক্ষেপ। তার একের পর এক পদক্ষেপে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় আইভ্যাক বা ভারতীয় ভিসা সেন্টার প্রতিষ্ঠিত হতে থাকে। এতদাসত্বেও যেহেতু উনি ভারতের মুখপাত্র সেহেতু উনি ভারতের প্রাপ্তিকেও ছোট করেন নি। বাংলাদেশের বিভিন্ন বন্দরে ওপেন ট্রানজিটের ব্যবস্থা করে ভারতের সীমান্তবর্তী জেলাগুলোকে হিডেন জীম হিসেবে আবিষ্কার করেছেন। মোটকথা তিনি ভাল খারাপ মিলিয়ে বেশ সফল ছিলেন।

Harsha Vardhan Shringla

তবে সেই সম্পর্কের নৌকা চরে আটকে যায় যখন ভারত বাংলাদেশে রিভা গাঙ্গুলী দাসকে হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেয়। রিভা গাঙ্গুলি মুলত ভারতের সংস্কৃতি সম্পর্ক বিভাগের ডিরেক্টর জেনারেল ছিলেন। ভৌগলিক ভাবে বাংলাদেশ এশিয়ার এমন একটা অংশে পড়েছে যেখান থেকে পুরো এশিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। চীন-ভারত সবসময়ই এশিয়াতে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে বাংলাদেশকে তুরুপের তাস হিসেবে ব্যবহার করে। কুটনৈতিক অবস্থান পরিষ্কার করে বাংলাদেশের জলসীমা নিয়ন্ত্রণ করা গেলে তা এশিয়ায় গেম চেঞ্জার হবে। ভুলটা এখানেই করে বসে ভারত। বাংলাদেশের কুটনৈতিক অবস্থানে গুরুত্ব না দিয়ে রিভা গাঙ্গুলিকে হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেয়। রিভা গাঙ্গুলি কালচারাল বিষয়-আশয় নিজে কাজ করেছেন। সরাসরি কোন দেশের পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে তার দক্ষতা কম। ইভেন বলা যায় বাংলাদেশ যেখানে দুই শিকারীর (ভারত-চীন) টার্গেট তখন রিভা গাঙ্গুলীর মত তুলনামুলক কম চৌকস মানুষকে বাংলাদেশের হাইকমিশনার করা নেহায়ৎ ভারতের ভুল ছিল।

Riva Ganguly Das

সুযোগটাকে কাজে লাগায় চীন। একে একে চীনা দুতাবাস হাত করতে থাকে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়। এক পর্যায়ে রাষ্ট্রপ্রধান কে জানায় চীন ৯৭ টি পণ্য শুল্ক ছাড়ায় রপ্তানির সুযোগ দেবে। বাংলাদেশে রপ্তানি যোগ্য পণ্য এমনিই কম। সেখানে ৯৭ টা পণ্যে শুল্ক ছাড় দেওয়া মানে বিশাল কিছু নিয়ে হাজির চীন। এমন সুযোগ বাংলাদেশের অর্থনীতিকে স্রোতের মত এগিয়ে নেবে খুবই স্বাভাবিক। বাংলাদেশও এই সুযোগ ধরে বসে। এটাকে চীনের মানি ট্রাপ বললেও বলা যেতে পারে। ফলশ্রুতিতে চীনের প্রতি বাংলাদেশ সরকারের আলাদা সম্প্রীতি তৈরী হয়। বিষয়টি আরো বিস্তর পরিষ্কার হলো যখন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপ্রধান কৌশলগত নিরপক্ষ অবস্থান নিলেন গালওয়ান উত্তপ্তায়। চীন ভারতের ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলা যখন শুরু করে করেছে তখন হঠাৎ অসহায় হয়ে পড়েন রিভা দাস।

বারবার বাংলাদেশ সরকারের সাথে কথা বলেও ভারতের পক্ষে অবস্থান করাতে ব্যর্থ হন। বাংলাদেশের এরুপ নিরপেক্ষ অবস্থান বিষ্মিত করে ভারতকেও। ভারতের নৈমিত্তিক বিশ্বাস ছিল, যে কোন অবস্থায় বাংলাদেশকে পাশে পাবে ভারত। কিন্তু সে সুযোগ হলো না। বরং, এরই মধ্যে চীন ঘোষনা দেয় করোনার টিকা আবিষ্কার হলে তা প্রথম বাংলাদেশই পাবে। বাংলাদেশ তো মহাখুশি। চীনের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কিছুটা নিশ্চুপ ভুমিকা ভারতের মাথায় আঘাত করে। এরই মধ্যে নেপাল যাদের খাদ্যব্যবস্থা কিনা সম্পূর্ণ ভারতের উপর নির্ভরশীল তারা ভারতের প্রভুত্ব মানতে সরাসরি অস্বীকৃতি জানায়। মানচিত্র পরিবর্তন করে কালাপানিকে নিজেরেদের ভুখন্ডে ঢুকিয়ে নেয়। ভারতের প্রভুত্ব মানায় বাংলাদেশের অসারতা এবং নেপালের প্রত্যাখ্যান দুটোই ভু-রাজনীতির জন্য কঠিন হয়ে দাড়ায়। ক্ষুদ্র দেশগুলো নিজেদের পুর্ণ শক্তি বলয়ে ফিরতে চাইলে চীনও তাদেরকে উস্কানী দিয়ে এগিয়ে দেয়।

c রিভা গাঙ্গুলী একের পর এক বাংলাদেশী পলিটিশিয়ানদের সাথে দেখা করে ভারত-বাংলাদেশ সর্ম্পককে সহোদর হিসেবে উল্লেখ করলেও আপাতত দৃষ্টিতে চীনের বিপক্ষে ভাইকে পাশে পাচ্ছিল না ভারত। চিন্তিত ভারত সরকার যুদ্ধপথে চীনকে মোকাবেলা না করে বিকল্প পথে হাটা শুরু করেছে। তাই জল যাতে আরো ঘোলা না হয় তারজন্য দ্রুত অভিজ্ঞ কুটনীতিক দেওয়াই ভরসা হতে পারে। সেই হিসেবে আজকে ঢাকায় ভারতের নতুন হাইকমিশনার হলেন বিক্রম দোরাইসামি। বিক্রম দোরাইসামি ভারতের পররাষ্ট্র সার্ভিসের (আইএফএস) ১৯৯২ ব্যাচের কর্মকর্তা। তিনি বর্তমান হাইকমিশনার রীভা গাঙ্গুলি দাশের স্থলাভিষিক্ত হবেন। রীভা গাঙ্গুলি ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (পূর্ব) হিসেবে যোগ দিচ্ছেন। বিক্রম দোরাইসামি বর্তমানে অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তা। এর আগে তিনি ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশ বিভাগের ভারপ্রাপ্ত যুগ্ম সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। শিগগিরই তিনি ঢাকায় তাঁর কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। তিনি হবেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের ১৭ তম হাইকমিশনার।

দোরাইসামি যেহেতু বাংলাদেশ নিয়ে আগে কাজ করেছেন এর অর্থ তিনি বেশ অভিজ্ঞ। ভারত সম্ভবত ইমেজ ক্রাইসিস ঠেকাতেই এত গুরুত্বপুর্ণ কুটনীতিককে বাংলাদেশের দায়িত্ব দিয়ে পাঠাচ্ছে। আশা করা যায় ভারত-চীনের বাংলা বিজয়ের খেলাটা এবার বেশ জমবে। কে হবে বাংলার প্রকৃত বন্ধু, তা সময়েই বলে দেবে।

Post your comment

AL SHAHRIAT KARIM

Al Shahriat Karim also known as Shahriat is a Professional Intellectual Property Law Advisor, Traveler, Freelancer, Author, Columnist, Blogger and Photographer. He loves to meet new people and community around the world and write the experience here. He received "Joy Bangla Youth Award 2019" from the Honorable Chairperson of CRI Mr. Sajeeb Wazed Joy, son of Sheikh Hasina, the Honorable Prime Minister, Government of the People's Republic of Bangladesh.

Recent posts

কোনদিকে যাচ্ছে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক?

পলিটিক্যাল এবং আর্ন্তজাতিক ইস্যু নিয়ে বিশ্লেষণ করা একেবারেই ছেড়ে দিছি। কিন্তু টপিক যখন ভারত-বাংলাদেশ সর্ম্পক তখন অবশ্যই গুরুত্ব দিতে হবে। ভারত...

Al Shahriat Karim Speaks on COVID – 19

Press Release: On June 2020, Al Shahriat Karim (23) speaks on Covid-19 situation at বিশ্লেষণ: Media of Madaripur Live. The honourable Speakers...

Recent comments